যাত্রাপুস্তক

ভূমিকা

হিব্রু ভাষায় ‘এক্সোডাস’ শব্দের অর্থ নির্গমন। এই শব্দটি ইস্রায়েল জাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা বলে। মিশর দেশে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ ইস্রায়েল জাতির এই দেশ পরিত্যাগ করিয়া কনান দেশ অভিমুখে যাত্রার ঘটনাই এই পুস্তকে বিবৃত হইয়াছে। পুস্তকটির চারিটি প্রধান অংশঃ (১) দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ ইস্রায়েল জাতিকে মুক্তিদান। (২) সীনয় পর্বতে তাহাদের যাত্রা। (৩) সীনয় পর্বতে প্রজাদের সহিত ঈশ্বরের নিয়ম, যে নিয়ম ইস্রায়েলীয়দের নৈতিক, নাগরিক ও ধর্মীয় জীবনে সঠিকভাবে চলিবার জন্য দেওয়া হইয়াছিল। (৪) ইস্রায়েলীয়দের উপাসনার জন্য একটি মন্দির নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রে সুসজ্জিতকরণ এবং ঈশ্বরের উপাসনার ও যাজকদের পালনীয় নানা বিধি-ব্যবস্থা।

সর্বোপরি, ঈশ্বর কিভাবে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ আপন প্রজাদের মুক্তিদান করিয়া এবং ভাবী দিনের উজ্জ্বল আশায় উদ্দীপ্ত করিয়া একটি জাতিতে রূপান্তরিত করিয়াছিলেন, সেই কথাও এই পুস্তকে বিবৃত হইয়াছে।

এই পুস্তকটির মূল মানব চরিত্র হইলেন মোশি, যাঁহাকে ঈশ্বর তাঁহার প্রজাদের মিশর দেশ হইতে পরিচালনা করিয়া লইয়া আসিবার জন্য মনোনীত করিয়াছিলেন। পুস্তকটির ব্যাপকভাবে পরিচিত অংশ হইল ইহার ২০ অধ্যায়, যেখানে দশ আজ্ঞার একটি তালিকা লিপিবদ্ধ হইয়াছে।

বিষয়বস্তুর রূপরেখা:

মিশর দেশ হইতে ইস্রায়েল জাতির মুক্তিলাভ – ১:১—১৫:২১

ক. মিশরে দাসত্ব – ১:১-২২

খ. মোশির জন্ম ও প্রথম জীবন – ২:১—৪:৩১

গ. মিশর রাজের সম্মুখে মোশি ও হারোণ – ৫:১—১১:১০

ঘ. নিস্তারপর্ব ও মিশর দেশ পরিত্যাগ – ১২:১—১৫:২১

লোহিত সাগর হইতে সীনয় পর্বত – ১৫:২২—১৮:২৭

ব্যবস্থা ও নিয়ম – ১৯:১—২৪:১৮

সমাগম-তাম্বু এবং উপাসনার বিধি-ব্যবস্থা ও নির্দেশাবলি – ২৫:১—৪০:৩৮