
55
পরিত্রাণ গ্রহণার্থে নিমন্ত্রণ
1 অহো, তৃষিত লোক সকল, তোমরা জলের কাছে আইস;
যাহার রৌপ্য নাই, আইসুক; তোমরা আইস, খাদ্য ক্রয় কর, ভোজন কর;
হাঁ, আইস, বিনা রৌপ্যে খাদ্য, বিনা মূল্যে দ্রাক্ষারস ও দুগ্ধ ক্রয় কর।
2 কেন অখাদ্যের নিমিত্ত রৌপ্য তৌল করিতেছ,
যাহাতে তৃপ্তি নাই, তাহার জন্য স্ব স্ব শ্রমফল দিতেছ?
শুন, আমার কথা শুন, উত্তম ভক্ষ্য ভোজন কর,
পুষ্টিকর দ্রব্যে তোমাদের প্রাণ আপ্যায়িত হউক।
3 কর্ণপাত কর, আমার নিকটে আইস;
শ্রবণ কর, তোমাদের প্রাণ সঞ্জীবিত হইবে;
আর আমি তোমাদের সহিত এক নিত্যস্থায়ী নিয়ম করিব,
দায়ূদের [প্রতি কৃত] অটল দয়া স্থির করিব।
4 দেখ, আমি তাঁহাকে জাতিগণের সাক্ষীরূপে, জাতিগণের নায়ক ও আদেষ্টারূপে নিযুক্ত করিলাম। 5 দেখ, তুমি যে জাতিকে জান না, তাহাকে আহ্বান করিবে; যে জাতি তোমাকে জানিত না, সে তোমার কাছে দৌড়াইয়া আসিবে; ইহা তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর নিমিত্ত, ইস্রায়েলের পবিত্রতমের হেতু ঘটিবে, কেননা তিনি তোমাকে গৌরবান্বিত করিয়াছেন।
6 সদাপ্রভুর অন্বেষণ কর, যাবৎ তাঁহাকে পাওয়া যায়,
তাঁহাকে ডাক, যাবৎ তিনি নিকটে থাকেন;
7 দুষ্ট আপন পথ, অধার্মিক আপন সঙ্কল্প ত্যাগ করুক;
এবং সে সদাপ্রভুর প্রতি ফিরিয়া আইসুক,
তাহাতে তিনি তাহার প্রতি করুণা করিবেন;
আমাদের ঈশ্বরের প্রতি ফিরিয়া আইসুক,
কেননা তিনি প্রচুররূপে ক্ষমা করিবেন।
8 কারণ সদাপ্রভু কহেন, আমার সঙ্কল্প সকল ও তোমাদের সঙ্কল্প সকল এক নয়, এবং তোমাদের পথ সকল ও আমার পথ সকল এক নয়। 9 কারণ ভূতল হইতে আকাশমণ্ডল যত উচ্চ, তোমাদের পথ হইতে আমার পথ, ও তোমাদের সঙ্কল্প হইতে আমার সঙ্কল্প তত উচ্চ। 10 বাস্তবিক যেমন বৃষ্টি বা হিম আকাশ হইতে নামিয়া আইসে, আর সেখানে ফিরিয়া যায় না, কিন্তু ভূমিকে আর্দ্র করিয়া ফলবতী ও অঙ্কুরিত করে, এবং বপনকারীকে বীজ ও ভক্ষককে ভক্ষ্য দেয়, আমার মুখনির্গত বাক্য তেমনি হইবে; 11 তাহা নিষ্ফল হইয়া আমার কাছে ফিরিয়া আসিবে না, কিন্তু আমি যাহা ইচ্ছা করি, তাহা সম্পন্ন করিবে, এবং যে জন্য তাহা প্রেরণ করি, সেই বিষয়ে সিদ্ধার্থ হইবে।
12 কারণ তোমরা আনন্দ সহকারে বাহিরে যাইবে,
এবং শান্তিতে তোমাদিগকে লইয়া যাওয়া হইবে।
পর্বত ও উপপর্বতগণ তোমাদের সমক্ষে উচ্চৈঃস্বরে আনন্দগান করিবে,
এবং ক্ষেত্রের সমস্ত বৃক্ষ হাততালি দিবে।
13 কণ্টকবৃক্ষের পরিবর্তে দেবদারু,
শ্যাকুলের পরিবর্তে গুলমেঁদি উৎপন্ন হইবে;
আর তাহা সদাপ্রভুর কীর্তিস্বরূপ হইবে,
লোপহীন নিত্যস্থায়ী চিহ্ন হইবে।