20

সোফরের দ্বিতীয় বক্তৃতা

1 নামাথীয় সোফর উত্তর করিয়া কহিলেন,

2 আমার চিন্তা উত্তর দিতে আমাকে উত্তেজিত করে,

কারণ আমি অধৈর্য হইলাম।

3 আমি নিজ অপমানসূচক উপদেশ শুনিলাম,

আমার বুদ্ধি হইতে আত্মা আমাকে উত্তর যোগায়।

4 তুমি কি ইহা জান না যে, কালের আরম্ভাবধি,

পৃথিবীতে মনুষ্যের স্থাপনাবধি,

5 দুষ্টগণের আনন্দগান ক্ষণমাত্র স্থায়ী,

পামরের হর্ষ নিমেষমাত্র স্থায়ী?

6 তাহার মহত্ত্বযদি আকাশ পর্যন্ত উঠে,

তাহার মস্তক যদি মেঘ স্পর্শ করে,

7 তথাপি সে আপন বিষ্ঠার ন্যায় চিরতরে বিনষ্ট হইবে;

যাহারা তাহাকে দেখিত, তাহারা বলিবে, সে কোথায়?

8 সে স্বপ্নবৎ লুপ্ত হইবে, নিরুদ্দেশ হইবে;

সে রাত্রিকালীন দর্শনের ন্যায় দূরীকৃত হইবে।

9 যে চক্ষু তাহাকে দেখিত, তাহা আর দেখিবে না,

তাহার বাসস্থান আর তাহাকে দেখিবে না।

10 তাহার সন্তানগণ দরিদ্রদের কাছে দয়া চাহিবে,

তাহার হস্ত তাহার সম্পত্তি ফিরাইয়া দিবে।

11 তাহার অস্থি যৌবনের তেজে পরিপূর্ণ,

কিন্তু তাহার সহিত তাহাও ধুলায় শয়ন করিবে।

12 যদ্যপি দুষ্টতা তাহার মুখে মিষ্ট লাগে,

আর সে তাহা জিহ্বার নিচে লুকাইয়া রাখে,

13 যদ্যপি ভালবাসিয়া তাহা ত্যাগ না করে,

কিন্তু মুখের মধ্যে রাখিয়া দেয়;

14 তথাপি তাহার অন্ন উদরে গিয়া বিকৃত হয়,

তাহার অন্তরে কালসর্পের গরলস্বরূপ হয়।

15 সে ধন গ্রাস করিয়াছে, আবার তাহা বমন করিবে;

ঈশ্বর তাহার উদর হইতে তাহা বাহির করিবেন।

16 সে সর্পের গরল চুষিবে,

বিষধরের জিহ্বা তাহাকে সংহার করিবে।

17 সে নদী সকলের প্রতি দৃষ্টিপাত করিবে না,

মধু ও দধিপ্রবাহী স্রোত সকল দেখিবে না।

18 সে আপন পরিশ্রমের ফল ফিরাইয়া দিবে, গ্রাস করিবে না,

সে নিজ লব্ধ সম্পত্তি অনুসারে আমোদ করিবে না।

19 কারণ সে দরিদ্রগণকে উৎপীড়ন ও ত্যাগ করিত,

সে যাহা নির্মাণ করে নাই, এমন গৃহ কাড়িয়া লইত।

20 তাহার উদরে শান্তি হইত না,

সে আপন অভীষ্ট বস্তুর কিছুই রক্ষা করিতে পারিবে না।

21 তাহার গ্রাসে কিছু অবশিষ্ট থাকিত না,

অতএব তাহার সুদশা থাকিবে না।

22 সে পূর্ণ প্রাচুর্যের সময়ে কষ্টে পড়িবে,

উপদ্রুত সকলের হস্ত তাহাকে আক্রমণ করিবে।

23 সে যখন নিজ উদর পূর্ণ করিতে উদ্যত হয়,

[ঈশ্বর] তাহার উপরে আপন ক্রোধাগ্নি নিক্ষেপ করিবেন,

তাহার ভোজনকালে তাহার উপরে তাহা বর্ষণ করিবেন।

24 সে লৌহাস্ত্র হইতে পলায়ন করিবে,

কিন্তু পিত্তলের ধনুর্বাণে বিদ্ধ হইবে।

25 সে বাণ টানিলে তাহা তাহার অঙ্গ হইতে বাহির হয়,

তাহার পিত্ত হইতে চক্‌মকে বাণাগ্র নির্গত হয়,

নানাবিধ ত্রাস তাহাকে আক্রমণ করে।

26 তাহার ধনরূপে সমুদয় অন্ধকার সঞ্চিত হয়,

বিনা ব্যজনে অগ্নি তাহাকে গ্রাস করিবে।

তাহার তাম্বুতে অবশিষ্ট সকলই ভস্ম করিবে।

27 আকাশমণ্ডল তাহার অপরাধ ব্যক্ত করিবে,

পৃথিবী তাহার প্রতিকূলে উঠিবে।

28 তাহার বাটীর সম্পত্তি উড়িয়া যাইবে,

তাহা ঈশ্বরের ক্রোধের দিনে গলিয়া যাইবে।

29 ইহাই ঈশ্বর হইতে দুষ্ট মনুষ্যের লভ্য অংশ,

ইহাই ঈশ্বর নিরূপিত তাহার অধিকার।