37

দায়ূদের।

1 তুমি দুরাচারদের বিষয়ে রুষ্ট হইও না;

অধর্মাচারীদের প্রতি ঈর্ষা করিও না।

2 কেননা তাহারা ঘাসের ন্যায় শীঘ্র ছিন্ন হইবে,

হরিৎ তৃণের ন্যায় ম্লান হইবে।

3 সদাপ্রভুতে নির্ভর রাখ, সদাচরণ কর,

দেশে বাস কর, বিশ্বস্ততাক্ষেত্রে চর। ৩৭:৩ (বা) দেশে বাস করিবে, নির্ভয়ে ভোজন করিবে।

4 আর সদাপ্রভুতে আমোদ কর,

তিনি তোমার মনোবাঞ্ছা সকল পূর্ণ করিবেন।

5 তোমার গতি সদাপ্রভুতে অর্পণ কর, তাঁহাতে নির্ভর কর,

তিনিই কার্য সাধন করিবেন।

6 তিনি দীপ্তির ন্যায় তোমার ধর্ম,

মধ্যাহ্নের ন্যায় তোমার বিচার প্রকাশ করিবেন।

7 সদাপ্রভুর নিকটে নীরব হও, তাঁহার অপেক্ষায় থাক;

যে আপন পথে কৃতকার্য হয়,

তাহার বিষয়ে, যে ব্যক্তি কুসঙ্কল্প করে,

তাহার বিষয়ে রুষ্ট হইও না।

8 ক্রোধ হইতে নিবৃত্ত হও, কোপ ত্যাগ কর, রুষ্ট হইও না,

হইলে কেবল দুষ্কার্য করিবে।

9 কারণ দুরাচারগণ উচ্ছিন্ন হইবে,

কিন্তু যাহারা সদাপ্রভুর অপেক্ষা করে,

তাহারাই দেশের অধিকারী হইবে।

10 আর ক্ষণকাল, পরে দুষ্ট লোক আর নাই,

তুমি তাহার স্থান তত্ত্ব করিবে, কিন্তু সে আর নাই।

11 কিন্তু মৃদুশীলেরা দেশের অধিকারী হইবে,

এবং শান্তির বাহুল্যে আমোদ করিবে।

12 দুষ্ট লোক ধার্মিকের প্রতিকূলে কুসঙ্কল্প করে,

তাহার বিরুদ্ধে দন্তঘর্ষণ করে।

13 প্রভু তাহাকে উপহাস করিবেন, কেননা তিনি দেখেন,

তাহার দিন আসিতেছে।

দুষ্টেরা খড়্‌গ নিষ্কোষ ও ধনুক আকর্ষণ করিয়াছে,

14 যেন দুঃখী ও দরিদ্রকে নিপাত করিতে পারে,

যেন সরলপথগামীদিগকে বধ করিতে পারে,

15 তাহাদের খড়্‌গ তাহাদেরই হৃদয়ে প্রবেশ করিবে,

তাহাদের ধনুক ভাঙ্গিয়া যাইবে।

16 ধার্মিকের অল্প সম্পত্তি ভাল,

বহুদুষ্টের ধনরাশি অপেক্ষা ভাল।

17 কারণ দুষ্টদের বাহু ভগ্ন হইবে;

কিন্তু সদাপ্রভু ধার্মিকদিগকে ধরিয়া রাখেন।

18 সদাপ্রভু সিদ্ধদের দিন সকল জানেন;

তাহাদের অধিকার চিরকাল থাকিবে।

19 তাহারা বিপদকালে লজ্জিত হইবে না,

দুর্ভিক্ষের সময়ে তৃপ্ত হইবে।

20 কিন্তু দুষ্টগণ বিনষ্ট হইবে,

সদাপ্রভুর শত্রুগণ মাঠের তৃণশোভার সমান হইবে;

তাহারা অন্তর্হিত, ধূমের ন্যায় অন্তর্হিত হইবে।

21 দুষ্ট ঋণ করিয়া পরিশোধ করে না,

কিন্তু ধার্মিক দয়াবান ও দানশীল।

22 কেননা তাঁহার আশীর্বাদের পাত্রেরা দেশের অধিকারী হইবে,

কিন্তু তাঁহার শাপের পাত্রেরা উচ্ছিন্ন হইবে।

23 সদাপ্রভু কর্তৃক মনুষ্যের পদক্ষেপ সকল স্থিরীকৃত হয়,

তাহার পথে তিনি প্রীত।

24 পতিত হইলেও সে ভূতলশায়ী হইবে না;

কেননা সদাপ্রভু তাহার হস্ত ধরিয়া রাখেন।

25 আমি যুবক ছিলাম, এখন বৃদ্ধ হইয়াছি,

কিন্তু ধার্মিককে পরিত্যক্ত দেখি নাই,

তাহার বংশকে খাদ্য ভিক্ষা করিতে দেখি নাই।

26 সে সমস্ত দিন দয়া করে, ও ধার দেয়,

তাহার বংশ আশীর্বাদ পায়।

27 তুমি মন্দ হইতে দূরে যাও,

সদাচরণ কর, চিরকাল বাস করিবে।

28 কেননা সদাপ্রভু ন্যায়বিচার ভালবাসেন;

তিনি আপন সাধুগণকে পরিত্যাগ করেন না;

তাহারা চিরকাল রক্ষিত হয়;

কিন্তু দুষ্টদের বংশ উচ্ছিন্ন হইবে।

29 ধার্মিকেরা দেশের অধিকারী হইবে

তাহারা নিয়ত তথায় বাস করিবে।

30 ধার্মিকের মুখ জ্ঞানের কথা বলে,

তাহার জিহ্বা ন্যায়বিচারের কথা কহে।

31 তাহার ঈশ্বরের ব্যবস্থা তাহার অন্তরে আছে;

তাহার পাদবিক্ষেপ টলিবে না।

32 দুষ্ট লোক ধার্মিকের প্রতি লক্ষ্য রাখে,

তাহাকে বধ করিতে চেষ্টা করে।

33 সদাপ্রভু তাহাকে উহার হস্তে ছাড়িয়া দিবেন না,

তাহার বিচারকালে তাহাকে দোষী করিবেন না।

34 সদাপ্রভুর অপেক্ষায় থাক, তাঁহার পথে চল;

তাহাতে তিনি তোমাকে দেশের অধিকার

ভোগের জন্য উন্নত করিবেন;

দুষ্টগণের উচ্ছেদ হইলে তুমি তাহা দেখিতে পাইবে।

35 আমি দুষ্টকে মহাক্ষমতাশালী দেখিয়াছি,

উৎপত্তি স্থানের সতেজ বৃক্ষের ন্যায় প্রসারিত দেখিয়াছি।

36 কিন্তু আমি সেই পথে গেলাম, দেখ, সে নাই,

আমি অন্বেষণ করিলাম, কিন্তু তাহাকে পাওয়া গেল না।

37 সিদ্ধকে অবধারণ কর, সরলকে নিরীক্ষণ কর;

শান্তিপ্রিয় ব্যক্তির শেষ ফল আছে।

38 অধর্মাচারিগণ সকলেই বিনষ্ট হইবে;

দুষ্টদের শেষ ফল উচ্ছিন্ন হইবে।

39 কিন্তু ধার্মিকদের পরিত্রাণ সদাপ্রভু হইতে,

তিনি সঙ্কটকালে তাহাদের দৃঢ় দুর্গ।

40 সদাপ্রভু তাহাদের সাহায্য করেন,

তাহাদিগকে রক্ষা করেন,

তিনি দুষ্টদের হইতে তাহাদিগকে রক্ষা করেন,

ও তাহাদের পরিত্রাণ করেন,

কারণ তাহারা তাঁহার শরণ লইয়াছে।