73

তৃতীয় খণ্ড

(৭৩—৮৯)

আসফের সঙ্গীত।

1 ঈশ্বর নিতান্তই মঙ্গলস্বরূপ, ইস্রায়েলের পক্ষে,

যাহারা শুদ্ধচিত্ত তাহাদের পক্ষে।

2 কিন্তু আমার চরণ প্রায় টলিয়াছিল;

আমার পাদবিক্ষেপ প্রায় স্খলিত হইয়াছিল।

3 কারণ যখন দুষ্টদের কল্যাণ দেখিয়াছিলাম,

তখন গর্বিতদের প্রতি ঈর্ষা করিয়াছিলাম।

4 কেননা তাহারা মৃত্যুকালে যন্ত্রণা পায় না,

বরং তাহাদের কলেবর হৃষ্টপুষ্ট।

5 মর্ত্যের ন্যায় কষ্ট তাহাদের হয় না;

মনুষ্যের মত তাহারা আহত হয় না।

6 এই জন্য অহঙ্কার তাহাদের কন্ঠের হারবৎ,

দৌরাত্ম্য বস্ত্রবৎ তাহাদিগকে আচ্ছাদন করে।

7 তাহাদের চক্ষু মেদে ঠেলিয়া উঠে,

তাহাদের মনের সঙ্কল্প অপরিমিত।

8 তাহারা বিদ্রূপ করে, ও দুষ্টতায় উপদ্রবের কথা কহে,

তাহারা দর্প কথা কহে।

9 তাহারা আকাশে মুখ রাখিয়াছে,

এবং তাহাদের জিহ্বা পৃথিবীতে বিহার করে।

10 এই জন্য তাহাদের জনতা সেই দিকে ফিরে, ৭৩:১০ ক* (বা) তিনি আপন লোকদিগকে ফিরাইয়া আনিবেন।

আর তাহাদের কথা জলের ন্যায় গিলিতে থাকে।

11 আর তাহারা বলে, ঈশ্বর কি রূপে জানিবেন?

পরাৎপরের কি জ্ঞান আছে?

12 দেখ, ইহারাই দুর্জন,

ইহারা চিরকাল নির্বিঘ্নে থাকিয়া ধন বৃদ্ধি করিয়াছে।

13 নিশ্চয় আমি বৃথাই চিত্ত পরিষ্কার করিয়াছি,

নির্দোষতায় হস্ত প্রক্ষালন করিয়াছি।

14 কেননা আমি সমস্ত দিন আহত হইয়াছি,

প্রতি প্রভাতে শাস্তি পাইয়াছি।

15 যদি আমি বলিতাম, এইরূপ বর্ণনা করিব,

তবে দেখ, তোমার সন্তানদের বংশের প্রতি বিশ্বাসঘাতক হইতাম।

16 আমি তাহা বুঝিবার জন্য চিন্তা করিলাম,

কিন্তু তাহা আমার দৃষ্টিতে কষ্টকর হইল,

17 যাবৎ আমি ঈশ্বরের ধর্মধামে প্রবেশ না করিলাম,

ও তাহাদের শেষ ফল বিবেচনা না করিলাম।

18 তুমি তাহাদিগকে পিচ্ছিল স্থানেই রাখিতেছ,

তাহাদিগকে বিনাশে ফেলিয়া দিতেছ।

19 তাহারা নিমিষকাল মধ্যে কেমন উচ্ছিন্ন হয়,

নানা ত্রাসে কেমন নিঃশেষে সংহার পায়।

20 নিদ্রা ভঙ্গ হইলে পর যেমন স্বপ্ন তুচ্ছ হয়,

তেমনি, হে প্রভু, তুমি জাগিলে

তাহাদের মায়াপুত্তলিকে তুচ্ছ করিবে।

21 কারণ আমার চিত্ত তাপিত হইল,

আমার মর্ম বিদ্ধ হইল;

22 আমি মূর্খ ও অজ্ঞান,

তোমার কাছে পশুবৎ ছিলাম।

23 কিন্তু আমি নিরন্তর তোমার সঙ্গে সঙ্গে আছি;

তুমি আমার দক্ষিণ হস্ত ধরিয়া রাখিয়াছ।

24 তুমি নিজ মন্ত্রণায় আমাকে গমন করাইবে,

শেষে সপ্রতাপে ৭৩:২৪ খ* (বা) প্রতাপের ভোগার্থে। আমাকে গ্রহণ করিবে।

25 স্বর্গে আমার কে আছে?

পৃথিবীতেও তোমা ভিন্ন আর কিছুতে আমার প্রীতি নাই।

26 আমার মাংস ও আমার চিত্ত ক্ষয় পাইতেছে,

তথাপি ঈশ্বর চিরকাল আমার চিত্তের শৈল ও আমার দায়াংশ।

27 কেননা দেখ, যাহারা তোমা হইতে দূরে থাকে,

তাহারা বিনষ্ট হইবে;

যে সকল লোক তোমা হইতে অপসরণ করিয়া ব্যভিচার করে,

সেই সকলকে তুমি উচ্ছিন্ন করিয়াছ।

28 কিন্তু ঈশ্বরের নিকটে থাকা আমারই পক্ষে মঙ্গল;

আমি প্রভু সদাপ্রভুর শরণ লইলাম,

যেন তোমার সমস্ত ক্রিয়া বর্ণনা করিতে পারি।